গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে একটি নতুন বিধি কার্যকর হলো, যার অধীনে ৫০০ কোটি টাকার মূলধনের কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে, যা আগের ১,০০০ কোটি টাকার সীমা থেকে উল্লেখযোগ্য হ্রাস। এই পরিবর্তনটি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ছোট-মাঝারি উদ্যোগকে শেয়ার বাজারে প্রবেশের পথ খুলে দেবে। বিধি অনুযায়ী কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট আর্থিক ও কর্পোরেট শাসন মানদণ্ড পূরণ করতে হবে, তবে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজতর হবে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

এই বিধি পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের আলোচনার ফলাফল, যেখানে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, বিনিয়োগকারী সমিতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত ছিল। আগের নিয়মে ১,০০০ কোটি টাকার সীমা অনেক কোম্পানিকে তালিকাভুক্তি থেকে বিরত রাখত, ফলে তাদের মূলধন সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হতো। নতুন বিধি অনুযায়ী ৫০০ কোটি টাকার কোম্পানিগুলোকে প্রথমে প্রাথমিক প্রকাশনা ও আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, এরপর শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির অনুমতি দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া দ্রুততর হলেও, তদারকি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিসিএমের মুখ্যমন্ত্রী মি. রাকিবুল হক বলেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের দেশের মূলধন বাজারকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।” একইসঙ্গে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানও উল্লেখ করেন যে, নতুন বিধি অনুসারে কোম্পানিগুলোকে নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন ও কর্পোরেট শাসন মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কারণ এতে তাদের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং ছোট-মাঝারি উদ্যোগের জন্য মূলধন সংগ্রহ সহজ হবে।

কর্তৃপক্ষ বর্তমানে নতুন বিধি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যা তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া ও তদারকি ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। ভবিষ্যতে এই বিধি প্রয়োগের ফলে শেয়ার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে, নিয়মিত পর্যালোচনা ও আপডেটের মাধ্যমে বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।