সৌদি আরবের পূর্ব‑পশ্চিম নলকূপে হুতিদের হুমকি প্রকাশের ফলে মানদেব প্রণালির কার্যক্রমে ব্যাঘাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই নলকূপটি দেশের পূর্বাঞ্চলের শিল্পনগরী আবকাইককে লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করে, যা তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান ধারা। হুতিদের সাম্প্রতিক বার্তায় তারা এই নলকূপ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে, যা তৎক্ষণাৎ তেল বাজারে অস্থিরতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ উত্থাপন করেছে। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি সমতা রক্ষার দিক থেকে অপরিহার্য।
পূর্ব‑পশ্চিম নলকূপের নির্মাণ কাজ দশ বছর আগে শুরু হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল তেল উৎপাদন কেন্দ্রকে সরাসরি সমুদ্রবন্দর সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে রপ্তানি খরচ কমে এবং পরিবহন নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়। তবে গত কয়েক বছর ধরে হুতিদের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইবেরি অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত, যা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করেছে। হুতিদের লক্ষ্য হল সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নেটওয়ার্ককে দুর্বল করা, যাতে তাদের রাজনৈতিক দাবিগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে শোনানো যায়। এই পটভূমিতে নলকূপের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে এবং অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।
হুতিদের মুখপাত্রের মতে, নলকূপ বন্ধ করা তাদের শেষ চূড়ান্ত শর্ত, যা না মানলে তারা আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের তেল মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে জানিয়েছে যে নলকূপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত রক্ষাকবচ ও নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কোনো হুমকি বাস্তবায়িত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে না। আন্তর্জাতিক তেল সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তারা হুতিদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে তেল দামের সম্ভাব্য উত্থান ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর প্রভাব সম্পর্কে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সৌদি সরকার ইতিমধ্যে নলকূপের চারপাশে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে, অতিরিক্ত নজরদারি ড্রোন ও সীমানা রক্ষাকারী বাহিনীর মোতায়েনের মাধ্যমে হুমকি মোকাবেলা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিকল্প রুটের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরণের বাধা সৃষ্টির ক্ষেত্রে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখা যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও নিরাপত্তা সহায়তা চাওয়া হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে নলকূপের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি গঠনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নলকূপের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।