সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীদের মধ্যে সংক্রামক রোগের বিস্তার এবং তার ফলে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সর্বত্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাসপাতাল ভিত্তিক সংক্রমণ বা নন-কমপ্লায়েন্সের কারণে রোগীদের মৃত্যু ঘটলে দায়িত্ব কে বহন করবে, তা নিয়ে একটি জটিল প্রশ্ন উঠে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক এবং রোগীর পরিবারের মধ্যে দায়-দায়িত্বের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং মানবসম্পদ ঘাটতি। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালের স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্টেরিলাইজেশন প্রক্রিয়া এবং রোগী নিরাপত্তা পদ্ধতিতে মানসম্মত মানদণ্ড পালন না হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে রোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করা বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায়ও রোগের জটিলতা দেখা দেয়। এই দ্বৈত প্রেক্ষাপটে কেউ কারও ওপর দায় চাপিয়ে দিতে চায়, যা স্বাস্থ্যসেবা খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং আইনজীবীরা মনে করছেন, রোগীর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে নির্ণয় করা ছাড়া দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তারা বলছেন, যদি হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্যানিটেশন বা চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোনো ভুল হয়, তবে প্রতিষ্ঠানকেই দায়ী হতে হবে। কিন্তু যদি রোগী বা তার পরিবারের অবহেলায় রোগের বিস্তার ঘটে, তবে ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব রোগী পরিবারের ওপর পড়তে পারে। জনসাধারণের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি, যাতে তারা চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে।
কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা মান নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশিকা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। ভবিষ্যতে রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে, যাতে দায়-দায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয় এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।