সরকার আজ ঢাকা ও উপকণ্ঠের ১০টি নির্বাচনী এলাকায় নতুন সাশ্রয়ী বাসস্থান প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠান পরিচালনা করে জাতীয় পর্যায়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল নগর ও গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারকে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সাশ্রয়ী ঘর প্রদান করা, যাতে তাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং দারিদ্র্যের চক্র ভাঙা যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও হাউসিং ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এই প্রকল্পের তাৎক্ষণিক গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
গত দশকে দেশের বাসস্থান সংকট অব্যাহত থাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনিরাপদ বাসস্থানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে চালু করা “সুস্থ ঘর” ও “সুবিধা গৃহ” প্রকল্পগুলো সীমিত বাজেট ও ধীর বাস্তবায়নের কারণে প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে পারেনি। এই প্রেক্ষাপটে নতুন পরিকল্পনা “মহানগর সাশ্রয়ী বাসস্থান” নামে পরিচিত, যা প্রতি পরিবারকে সর্বোচ্চ ১.৫ কোটি টাকায় আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ঘর সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া, নগর পরিকল্পনা ও পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয় করে টেকসই শহর গঠনের দিকেও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের হাউসিং মন্ত্রী বলেন, “ঘর বাঁচলে জীবন বাঁচে; এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা দরিদ্র পরিবারের মর্যাদা রক্ষা ও দারিদ্র্য হ্রাসে সরাসরি অবদান রাখব।” সমাজসেবী সংস্থা “আশা”র সভাপতি যোগ্যতাভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে গৃহহীন পরিবারকে অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছেন। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত ৫,০০০ পরিবার ইতিমধ্যে নতুন বাড়িতে বসবাস শুরু করেছে, যেখানে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতি স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন ঘরের নিরাপত্তা ও পরিষ্কার পরিবেশের প্রশংসা করে, ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
সরকার ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ মোট ২০ লক্ষ পরিবারকে ঘর প্রদান করার লক্ষ্য স্থির করেছে। তদুপরি, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তত্ত্বাবধান প্রদান করবে, যাতে নির্মাণ মান ও সময়সীমা নিশ্চিত হয়। ভবিষ্যতে এই মডেলকে অন্যান্য জেলা ও প্রদেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের প্রতিটি দরিদ্র পরিবার নিরাপদ বাসস্থানের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।